‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ বিষয়ে পলিসি কনক্লেভ

এলপিজিকে সাশ্রয়ী করতে হলে সরকারি নীতি সমর্থনের পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে অবকাঠামোও

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ সীমিত এবং তা দ্রুত কমে আসছে। বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত ও গৃহস্থালিতে ব্যবহারের জন্য আমদানীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ সীমিত এবং তা দ্রুত কমে আসছে। বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত ও গৃহস্থালিতে ব্যবহারের জন্য আমদানীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। আবার অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এলএনজি আমদানিতে রয়েছে সীমাবদ্ধতা। ফলে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিপ্রেক্ষিতে দেশে গ্যাসের চাহিদা পূরণে ভালো বিকল্প হতে পারে এলপিজি। তবে বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি এবং তা এলপিজি খাতের সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। প্রয়োজনীয় সরকারি নীতিসহায়তা এবং আমদানি ও সরবরাহের জন্য উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে ভোক্তা পর্যায়ে সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সরবরাহ করা সম্ভব। গতকাল বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন বক্তারা। ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হয়।

কনক্লেভে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এলপিজি খাতের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি বলে উল্লেখ করেন জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এজন্য এ খাতের ব্যবসায়ীদের দায়ী করেন। অন্যদিকে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের এলপিজি খাতের ব্যবসায়ীরা এ খাতের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও সরকারি নীতিসহায়তার ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্দরে এলপিজিবাহী বড় জাহাজ ভিড়তে না পারায় পণ্যটি খালাসে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। পাইপলাইন না থাকায় এলপিজির সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কাজটি অত্যন্ত জটিল। এ বিষয়গুলো এলপিজির দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। অনেক ব্যবসায়ী লোকসান দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন।

বাংলাদেশে এলপিজি ব্যবসা করতে গেলে অনেকগুলো সরকারি সংস্থার কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হয় এবং নিবন্ধন ফি অনেক বেশি বলেও অভিযোগ করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, এ কারণে ব্যবসায়ীরা যেমন হয়রানির শিকার হন, তেমনি উচ্চ নিবন্ধন ফি ভোক্তা পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে। কনক্লেভের সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এলপিজি খাতের ব্যবসার জন্য দরকারি লাইসেন্সের সংখ্যা কমিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানান। পাশাপাশি লাইসেন্স ফি কমাতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘বর্তমানে এলপিজির (১২ কেজির সিলিন্ডার) দাম ১২০০ টাকার বেশি। এর দাম ১ হাজার টাকার নিচে আসা উচিত। এখানে গ্রাহকের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হচ্ছে এই ১২০০ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০-১৫০০ টাকায়। এটি বন্ধ করতে হবে। আমরা মোবাইল কোর্ট করব। সরবরাহকারীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। দায়দায়িত্বহীন ব্যবসা, কেউ দায় নেবে না—এটা হতে পারে না। দাম ১ হাজার টাকার নিচে আনতে যে ধরনের লজিস্টিক সহযোগিতা দরকার সেটি দেখব। আমরা বেসরকারি খাতের পুরো এফিশিয়েন্সি পেতে চাই।’

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আরো বলেন, ‘এলপিজির দাম কমাতেই হবে। শিল্প খাতে এলপিজি ব্যবহার আরেকটি চ্যালেঞ্জ। দামের জন্য এটি বিদ্যুৎ কারখানা বা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সেজন্য এলপিজির দাম কমানোই চ্যালেঞ্জ। এ নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের এখানে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’

প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে গ্যাসের মজুদ কমে যাচ্ছে এবং খুব দ্রুতই এটি নিঃশেষ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোগত দিক থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাইলে তুলনামূলক সহজতর প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে জোর দিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সঙ্গে দেশের উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে।’

জনসাধারণের কাছে সুলভ মূল্যে জ্বালানি পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গ টেনে মঈন খান বলেন, ‘আমরা ১৮ কোটি মানুষের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দিতে পারিনি। জ্বালানি সরবরাহ যেকোনো মূল্যে বাড়াতে হবে এবং তা সুলভ মূল্যে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।’

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘এলপিজির মূল্য নির্ধারণে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে—একটি হলো বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, অন্যটি সৌদি আরব থেকে আমদানীকৃত গ্যাসের চুক্তিমূল্য। এই দুই উপাদানের ওঠানামার কারণেই এলপিজির মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে। মাতারবাড়ী এলপিজি টার্মিনালে বড় ও মাঝারি জাহাজের জন্য নোঙর সুবিধা উন্নত করা গেলে পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি খাতকে আরো কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।’

এর আগে কনক্লেভে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। তিনি বলেন, ‘ছয়-সাত বছর আগেও এলপিজির সরবরাহ ছিল ৮০ হাজার টন, এখন যা ১৫ লাখ টন হয়েছে। এর বাজার ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০৩০ সালে এ চাহিদা ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন (২৫ লাখ) টনে পৌঁছবে। ২০৪১ সালের মধ্যে এলপিজির চাহিদা দাঁড়াবে ৫ মিলিয়ন টনে। আর ২০৫০ সালে এ চাহিদা দাঁড়াবে ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) টনে। এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে। শিল্প ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার হয় ১২ শতাংশ। এলপিজি খাতে তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। বাজারে এটির ৯৮ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত। ২ শতাংশ করে সরকারি খাত। বাজারে এলপিজির সিলিন্ডার রয়েছে ৪ কোটি। এলপিজির গড় মাসিক বাজার ১ লাখ ৩০ হাজার টন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এলপিজিই একমাত্র জ্বালানি যেটি কোনো ধরনের সাবসিডি (ভর্তুকি) ছাড়াই গড়ে উঠেছে এবং টিকে আছে। এলপিজি প্রাকৃতিক গ্যাসের সহজ বিকল্প হতে পারে। এ খাতের প্রসার ও জনসাধারণের কাছে এলপিজি সহজলভ্য করতে সহায়ক পলিসি প্রয়োজন। সরকারি খাতের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।’

কনক্লেভের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেন, ‘বাংলাদেশে নিরাপদ জ্বালানির উদীয়মান খাত এলপিজি। এ মুহূর্তে দেশে এলপিজির চাহিদা ১৫ লাখ টন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে উঠবে। কোনো সন্দেহ নেই, এ খাতে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য এটা খুবই আকর্ষণীয়। তবে একই সঙ্গে এ খাতের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও ভাবতে হবে। এ মুহূর্তে এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় গৃহস্থালিতে। কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও শিল্প খাতে এলপিজির চাহিদা আছে। উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজির দাম কমাতে হবে। এজন্য কিছু জায়গায় আমাদের নজর দেয়া দরকার।’

এলপিজি খাতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল তার আলোচনায় বলেন, ‘এলপিজি একটি গ্রোয়িং (বর্ধনশীল) সেক্টর। এটির ব্যবহার ভবিষ্যতে হয়তো আরো বাড়বে। অতএব এখানে নিরাপত্তার বিষয়টিও আসবে। ব্যবহার বাড়লে দুর্ঘটনার বিষয়ও থাকবে। এর মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। এলপিজির যতগুলো প্লান্টে কার্যক্রম চলমান বা ভবিষ্যতে যতগুলো হবে এবং যারা ব্যবহারকারী আছেন, তাদের সচেতন হতে হবে। সিলিন্ডার কীভাবে ব্যবহার করতে হবে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সিলিন্ডারের গায়ে যেসব চিহ্ন থাকে সেগুলোর মানে কী, এটি জানতে হবে। একজন ব্যবহারকারী যখন ব্যবহার করছেন তখন কতটা মাত্রায় ব্যবহার করছেন, আগুন বা ছোটখাটো সমস্যায় পড়লে কী করবেন—এ বিষয়গুলো প্রচার করতে হবে। সেটি পত্রিকা, টেলিভিশন, সামাজিক মাধ্যম বা অন্য যেকোনো উপায়ে হতে পারে।’

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘দেশে এলপিজি ব্যবহারের অবকাঠামো নেই। উন্নত দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে এলপিজি সরবরাহ করা হয়। আমরা এখনো সিলিন্ডারের মাধ্যমে এলপিজি সরবরাহ করছি। অবকাঠামো তৈরি করা হলে এলপিজির চাহিদা আরো বাড়বে। এক্ষেত্রে প্রাধিকার ভিত্তিতে ছোট ছোট শহরকে পাইপলাইন সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে।’

এলপিজি ব্যবসায়ীদের নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এলপিজির লাইসেন্স নিতে গেলে ২০ ধরনের অনুমোদন পত্র ও কয়েক কোটি টাকা ফি দিতে হয়। বিপিসিকে বাজার ফি দিতে হয় লাখ লাখ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে এলপিজি সরবরাহ বৃদ্ধি নয়, বরং একসময় বন্ধ হয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের এলপিজি খাত “‍এনএসপিজি” পদ্ধতিতে চলছে। এখানে নো সাবসিডি, নো পেট্রোনাইজেশন, নো গভর্ন্যান্স (ভর্তুকি, উৎসাহ ও সুশাসন নেই)। যার যেভাবে ইচ্ছে-খুশি, সেভাবেই চলছে। এর কারণ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয় না। কোম্পানিগুলো এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করে না। গ্যাসের বাহন হিসেবে সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়। এ সিলিন্ডারগুলো অনেক সময় ইস্পাতের দোকানে বিক্রি করা হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফিলিং স্টেশনে পুনঃভর্তি করা হয়। সিলিন্ডার যদি ফিলিং স্টেশনেই পুনঃভর্তি করা হয়, তাহলে তো এলপিজি অপারেটরের কোনো দরকার হবে না। এ বিষয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে একাধিকবার চিঠি দিলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

এলপিজি গ্যাসকে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ‘ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসকে দেশের সব শ্রেণীর গ্রাহকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দিতে হলে রেগুলেটরি কমিশনকে অবশ্যই ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে। এ গ্যাস প্রান্তিক মানুষের কাছে শুধু পৌঁছলেই হবে না, তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। দেশের বাজারে এলপি গ্যাসের দাম যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এ দাম কমিয়ে আনতে হবে।’

গ্যাস আমদানিতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘আমরা ছোট কিংবা মাঝারি আকারের কার্গোতে গ্যাস আমদানি করি। কিন্তু এ জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর সেখানে ডিসচার্জ (খালাস) করার অনুমতি দেয়া হয় না। কুতুবদিয়ায় ডিসচার্জ করতে বলা হয়। অথচ সেখানেও কার্গো ডিসচার্জ করার অবস্থা নেই। আমাদের হাত বাঁধা থাকার কারণে অনেক কিছুই করতে পারি না। সরকার ইচ্ছেমতো যখন-তখন নীতি তৈরি করে। যেকোনো নীতি অবশ্যই জনগণ ও অংশীজনের মতামত নিয়ে তৈরি করা উচিত।’

দেশের এলপিজি খাতে ব্যাংকগুলোর আরো সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে ইস্টার্ণ ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ‘এলপিজি খাত দিন দিন বড় হচ্ছে। আমার ব্যাংকিং দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে চাই এখানে ব্যাংক খাতের আরো সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারণ ব্যবসা যত বড় হবে সেখানে লাভ তত বেশি হবে। এটি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এলএনজি পুরোটাই আমদানিনির্ভর। সেজন্য আমরা এখানে তিনটি বড় ঝুঁকি দেখতে পাই। প্রথমত, মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করা, দ্বিতীয়ত, পণ্য পরিবহন খরচ এবং তৃতীয়ত, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ঠিক রাখা।’

ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন ওরতাচ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থেই এলপিজি কোম্পানিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সহজ ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহে এবং অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখতে এলপিজি কোম্পানি, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার গুরুত্বপূর্ণ। এলপিজি কোম্পানি না থাকলে আমরা কেউ খেতে পারব না। এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থা রক্ষা না করলে দেশে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।’

পেট্রোম্যাক্স এলপিজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্কো অ্যান্টোনিও রড্রিগেজ ডি অলিভেইরা বলেন, ‘আমি যখন ২০০৩ সালে প্রথমবার বাংলাদেশে বাজার পরিদর্শনে আসি, তখনই উৎসাহিত হয়েছিলাম। কারণ এখানে করার মতো অনেক কিছু ছিল। ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তা পর্যায়ে আরো পেশাদারত্ব আনার বড় সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে একটি উচ্চমানের, নিরাপদ ও টেকসই এলপিজি শিল্প গড়ে তোলার বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি।’

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে সিরামিক কারখানায় এলপিজি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আকিজ বশির গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘সিরামিক উৎপাদনে গ্যাস হচ্ছে অক্সিজেন। তবে আমরা খুবই কঠিন সময় পার করেছি। উৎপাদনের সময় গ্যাসের চাপে সামান্যতমও যদি ওঠানামা হয়, তাহলে আমাদের বিশাল ক্ষতি হয়ে যায়। ২০২১-২২ সালের দিকে আকিজ সিরামিককে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে শুধু গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে। এ পরিস্থিতিই আমাদের বাধ্য করেছে বিকল্প উপায় যেতে। আমরা ওমেরার সহায়তায় কারখানাগুলোয় এলপিজি স্থাপন করেছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শিল্প উৎপাদনের জন্য এলপিজি কখনো প্রথম পছন্দ হতে পারে না। এর দাম অন্য জ্বালানির তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেশি। এর পরও আমরা এলপিজিতে গিয়েছি শুধু উৎপাদন চালু রাখতে। কারণ যেকোনো শিল্পে পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে সরবরাহ কমে যায়। এতে বাজারে শূন্যতা তৈরি হয় এবং ভোক্তাদের আস্থা কমে যায়। শুধু ব্যবসা চলমান রাখার জন্যই আমরা এলপিজি স্থাপন করেছি।’

কনক্লেভে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে নওগাঁ থেকে আসা এলপিজি পরিবেশক স্যাটেলাইট এলপিজি প্লান্টের স্বত্বাধিকারী নৃপেন্দ্র কুমার মজুমদার বলেন, ‘এলপিজি ব্যবসায় কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে মধ্যস্বত্ব ব্যয় কমাতে হবে। অপারেটররা সাধারণত মোংলা ও চট্টগ্রাম থেকে এলপিজি সরবরাহ করে। উত্তরবঙ্গে এলপিজি দেয়া হয় মোংলা থেকে। একটা খালি বোতল মোংলায় নিয়ে ভর্তি করে আনতে ৬০ টাকা ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি জেলায় যদি অপারেটররা এলপিজি বোতলজাত করার ব্যবস্থা করে, তাহলে বোতলপ্রতি ব্যয় প্রায় ১০০ টাকা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করি।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, ‘অপারেটররা অনেক সময়ই তৃণমূল পর্যন্ত খোঁজখবর রাখতে পারেন না। সিলিন্ডার কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে ও কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, এ বিষয়ে তারা খোঁজখবর রাখে না। এলপিজি এখন হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়িসহ যেখানে-সেখানে দেখা যায়। এটি এখন গ্রামেও চলে গেছে। তাই এলপিজির নিরাপত্তার বিষয়টিও অপারেটরদের ভাবা উচিত। বিক্রির সময় এলপিজির নিরাপদ ব্যবহারবিষয়ক লিফলেট দেয়া হলে দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা হলো পলিসি সমস্যা। পলিসি অনুসারে এলপিজি গ্যাস প্লান্ট বসাতে হলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স লাগবে। অধিদপ্তর থেকে ফাইলটা পাঠানো হয় জেলা প্রশাসনের কাছে। সেখান থেকে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে। এভাবে সব যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়ে আসতে তিন-চার মাস সময় লাগে শুধু প্লান্ট স্থাপনের অনুমতি পেতে। প্লান্ট স্থাপনের পর আবার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে চূড়ান্ত লাইসেন্স নিতে। একজন ব্যবসায়ীকে এক-দুই বছর সময় ব্যয় করতে হয় শুধু লাইসেন্সের পেছনে। এভাবে চলতে থাকলে সে কীভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কাজ করবে?’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি, শিক্ষা ও জ্বালানি—এ তিনটা খাতে আমাদের বেশি মনোযোগ দেয়া দরকার। আগামী ১০ বছর এ খাতগুলোতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ যেন টেকসই হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি ও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘এলপিজির নিবন্ধন এবং নবায়ন প্রক্রিয়ায় নীতিগত সংস্কার দরকার। এলপিজি লজিস্টিকস খাত চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। অবকাঠামো নেই কিন্তু পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ডিস্ট্রিবিউশন করতে হয়।’

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘অগ্রণী ব্যাংক এলপিজি খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে, করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে বলে বিশ্বাস করি। অনেক সময় মুদ্রা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের সময় গ্রাহকের ওপর প্রভাব পড়ে। কারেন্সি কাভারেজের জন্য কিছু বিনিয়োগ করলে গ্রাহকদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। ভবিষ্যতের সরকার ও প্রজন্ম যদি এগুলো বাস্তবায়ন করে তাহলে দেশ ও দশের অনেক উপকার হবে।’

‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি লিমিটেডের পরিচালক ও কোম্পানি সচিব (লিগ্যাল, কমপ্লায়েন্স, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, প্রধান হিসাব কর্মকর্তা (সিএফও) ⁠মুহাম্মাদ ইসমাঈল, পরিচালক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত, সহসভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমেদ, মহাসচিব ফারহান নূর ভূঞা, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল কাইয়ুম খান, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আল মামুন ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. ওয়াসিউল হুদা (সৈকত), নির্বাহী সদস্য আব্দুল মোমেন মোল্লা, আব্দুল হান্নান কাকন, ওয়াহিদ খান, বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. হাসিন পারভেজ, সদস্য হুমায়ন কবির ভূইয়া, মীর আহসান উদ্দিন পারভেস, মোহা. দিদারুল আলম, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি সাব্বির এ খান, সেফটেক এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লিয়াকত আলী, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শরীফ হাসনাত।

কনক্লেভে আরো উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মঈনউদ্দীন মোনেম, ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ মোল্লা, জেএমআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড্যানিয়েল ডব্লিউ লুন্ড, ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সিইও তানজিম চৌধুরী, সেনা কল্যাণ সংস্থার সিইও মশি উদ দুজা, ইউনিভার্সাল এলপিজি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড সিইও শাহজাহান সাজু, এসবিএসি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড সিইও এসএম নাসির উদ্দিন, সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার ১ ও ২-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড সিইও মো. রিয়াজ উদ্দীন, একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ, পিজিকের নির্বাহী পরিচালক আ. শ. ম. আমানুল হাসান তাইমুর, বিলসের এসপিও মনিরুল কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাকলি জাহান আহমেদ, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. কামাল হোসেন সরকার, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল রহমান, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম নাজিম এ চৌধুরী, ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি লিমিটেডের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ওসমান চেলিক, ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি লিমিটেডের ডিরেক্টর (বিজনেস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি) রাইসা জামিল, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল কবির কাবুল, বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওসমান গনি, ফার্স্ট জয়েন্ট সেক্রেটারি ফিরোজ আলম সুমন, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, সেফটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাব্বির এ খান, আল কাদেরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম সুমন, ক্যাসটল রক এনার্জি লিমিটেডের সিইও খালেদ হোসাইন, স্টেন অ্যান্ড পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার ভুঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার আবু সাঈদ রাজা, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শরীফ হাসনাত, এলপি গ্যাস লিমিটেডের (এলপিজিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া, এলপিজিএলের জিএম সিদ্দিকুর রহমান, ওরিয়ন গ্যাস লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হাবিবুর রহমান, পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জহিরুল ইসলাম, ওরিয়ন এলপি গ্যাসের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) প্রকৌশলী অনুপ কুমার সেন, ওরিয়ন করপোরেশন গ্যাস লিমিটেডের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার এসএম মনজুরুল হক, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, প্রভাষক আবু শাইম বিশ্বাস, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ চন্দ্র সরকারসহ আরো অনেকে।

আরও